All products
বিভূতি-ভিন্টেজ সংস্করণ
থার্টি নাইন ক্লুজ সিরিজ
সাখাওয়াত হোসেন
তাসনিয়া আহমেদ
কুপন
গল্পগ্রন্থ



বই: সুন্দরবনে সাত বৎসর
লেখক: ভুবনমোহন রায় ও বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রচ্ছদ: আবু আনন্দ নিটু ও তাহমিদ রহমান
জনরা: চিরায়ত উপন্যাস (কিশোর অ্যাডভেঞ্চার)
ISBN: 978-984-95490-2-4
সাইজ: ক্রাউন-হার্ডকাভার
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬
মুদ্রিত মূল্য: ২৬০ টাকা
কাহিনি সংক্ষেপ:
ঠাকুরদাদার সাথে ঘুরতে গিয়ে সুন্দরবনের জলদস্যু দ্বারা অপহৃত হয় কিশোর নিলু। প্রাণনাশের ভাগ্য বরণ না করলেও দস্যু প্রধানের ছেলে মউংনু-র খেলার সাথী হিসেবে নিলুকে বরণ করে নিতে হয় পরাধীন জীবন। আর এভাবেই তার সামনে উন্মোচিত হয় অরণ্যের অজানা অধ্যায়। প্রাণী ও বনানীর পারস্পারিক সহাবস্থান এবং প্রকৃতির অপরূপ বৈচিত্র্য তাকে বিমোহিত করে। কিন্তু এসবে তার মুক্তির তৃষ্ণা মেটে না। তার অনুসন্ধিৎসু মন ছুটে যেতে চায় তেপান্তরে মাঠ পেরিয়ে সপ্তসিন্ধু অবধি। অবশেষে একদিন... খুঁজে নেয় সে অনুসন্ধিৎসু মনের ঘরে ফেরার পথ।
বাংলা শিশুসাহিত্যে অভিযানধর্মী কাহিনির ইতিহাস দীর্ঘ হলেও তার প্রাথমিক উৎসের বহু নাম আজ অনেকটাই বিস্মৃত। এই ধারার সূচনা-পর্বে যে কজন মানুষ নীরবে-নিভৃতে ভূমিকা রেখেছিলেন, তাঁদের মাঝে অন্যতম হচ্ছেন প্রমদাচরণ সেন ও ভুবনমোহন রায়।
স্কুল শিক্ষক প্রমোদাচরণ সেন-এর সম্পাদনায় ১৮৮৩ সালে ছোটদের জন্য সেই সময়ের অন্যতম আধুনিক পত্রিকা ‘সখা’ প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকা প্রকাশের জন্য তিনি ঋণ পর্যন্ত করেছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
এরপরে আরও অনেকে বিভিন্ন সময়ে এই পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব নেন এবং ১৮৯৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ‘সখা’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকার অন্যতম একজন লেখক ছিলেন ভুবনমোহন রায়। ১৮৯৩ সালের মে মাসে তাঁর সম্পাদনায় ‘সাথী’ নামে একটি সচিত্র পত্রিকা প্রকাশিত হয়। সাথী পরের বছর ১৮৯৪ সালের এপ্রিল মাস অবধি প্রকাশিত হয়।
ভুবনমোহন রায় ও প্রমদাচরণ সেন ছিলেন খুব ঘনিষ্ট বন্ধু ও আত্মীয় স্থানীয়। প্রমদাচরণের মৃত্যুর পরে ভুবনমোহন তাকে ভুলতে পারেননি। তাঁরই স্মৃতি রক্ষার্থে ১৮৯৪ সালের এপ্রিল মাসেই ‘সাথী’ পত্রিকার নাম বদলে ভুবন মোহন রায়-এর সম্পাদনায় ‘সখা ও সাথী’ নামে প্রকাশ করা হয়। ১৮৯৫ সালে ‘সখা ও সাথী’ পত্রিকায় তিনি ধারাবাহিক কিশোর-অভিযানমূলক কাহিনি ‘সুন্দরবনে সাত বৎসর’ রচনা শুরু করেন। কিন্তু পত্রিকাটি দীর্ঘজীবী না হওয়ায় কাহিনিটি অসমাপ্ত অবস্থায় থেকে যায়।
দীর্ঘ কয়েক দশক পরে, বিশ শতকের তৃতীয় দশকে যোগীন্দ্রনাথ সরকারের প্রচেষ্টায় বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় অসমাপ্ত এই রচনাটি সম্পূর্ণ করেন। বিভূতিবাবুর মৃত্যুর দুই বছর পরে, ১৯৫২ সালে, গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রথম সংস্করণে লেখক হিসেবে উল্লেখ ছিল–
“সখা ও সাথী সম্পাদক ভুবনমোহন রায় ও ‘পথের পাঁচালী’, ‘আরণ্যক’ প্রভৃতি প্রণেতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-প্রণীত।”
বইটি প্রকাশের পরে পরেই তা রাজশেখর বসুর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি প্রকাশক সুধীন্দ্র সরকারকে চিঠি লিখে লেখেন–
“প্রীতিভাজনেষু,
সুন্দরবনে সাত বৎসর বইখানি খুব ভালো লাগল, লেখা ছবি ছাপা কাগজ সবই উত্তম। ছোটো ছেলে-মেয়েরা অ্যাডভেঞ্চার পড়তে ভালোবাসে। এরকম রচনা রূপকথা বা ডিটেকটিভ গল্পের চাইতে হিতকর মনে করি, কারণ, পড়লে মনে সাহস হয়, কিছু জ্ঞানলাভও হয়। সাহসিক অভিযান বা বিপদসংকুল ঘটনাবলির জন্য আফ্রিকায় বা চন্দ্রলোকে যাবার দরকার দেখি না, ঘরের কাছে যা পাওয়া যায় তার বর্ণনাই বাস্তবের সঙ্গে বেশি খাপ খায় এবং স্বাভাবিক মনে হয়।
সুন্দরবন রহস্যময় স্থান, নিসর্গশোভা নদী সমুদ্র নানারকম গাছপালা বন্যজন্তু আর সংকটের সম্ভাবনা সবই সেখানে আছে। এই সবের বর্ণনা এবং চিত্র থাকায় আপনার বইখানি অতি চিত্তাকর্ষক হয়েছে। যাদের জন্য লিখেছেন তারা পড়লে খুব খুশি হবে সন্দেহ নেই।
ভবদীয়
রাজশেখর বসু”
তবে পরবর্তী সংস্করণগুলোতে এক অনভিপ্রেত পরিবর্তন ঘটে। ১৯৭৩ সালের পর বইটির অধিকাংশ সংস্করণে ভুবনমোহন রায়ের নাম পুরোপুরি বাদ দিয়ে কেবল বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নাম ব্যবহার করা হয়। ফলে কাহিনির প্রকৃত প্রবর্তকের পরিচয় আড়ালে চলে যায়। যা বাংলা প্রকাশনা জগতের এক দুঃখজনক দৃষ্টান্ত। অথচ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই বই সম্পর্কে লিখেছিলেন–
“শেষ দিকের কয়েকটি অধ্যায় লিখিয়া দিয়া এই পুস্তকের সুন্দর গল্পটি সমাপ্ত করিবার ভার আমার উপর ন্যস্ত হইয়াছিল। আমি সেই কার্য্যে কতদূর কৃতকার্য্য হইয়াছি জানি না, তবে অধ্যায় কয়টি লিখিবার সময় একটি রূপময় জগতের ছবি মনের চোখে দেখিয়া আনন্দ পাইয়াছি, শুধু এই কথাটি লিখিবার জন্যই এই ক্ষুদ্র ভূমিকাটুকুর অবতারণা। যাঁহারা এ সুযোগ আমায় দিয়াছেন, তাঁহাদের নিকট আমি কৃতজ্ঞ।”
যদিও বিভূতিবাবু এখানে শেষ দিকে কয়েকটি অধ্যায় লেখার কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ করে ভাষারীতি ও লেখনশৈলী অনুযায়ী এই উপন্যাসের প্রায় তিন চতুর্থাংশ তিনি লিখেছেন।
সুন্দরবনে সাত বৎসর–কিশোর উপন্যাসের তকমা ছাপিয়ে, দুই প্রজন্ম ও যুগের সাহিত্য ধারার অনন্য সেতুবন্ধন হিসেবে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে৷ যার লেখক হিসেবে ভুবনমোহন রায় ও বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এঁর নাম একসঙ্গে উচ্চারণ করা মানে বাংলা কিশোর সাহিত্যের ইতিহাসের দুই প্রান্ত–সূচনা ও পরিণতি–একত্রে ধারণ করা। তাছাড়া এই রচনার ক্ষেত্রে দু’জনের নাম পাশাপাশি থাকা শুধু ন্যায়সংগতই নয়–আবশ্যিকও বটে।
পরিশেষে এই ভেবে পুলকিত হতে হয়, সুন্দরবনে সাত বৎসর উপন্যাসটি সতীর্থ প্রকাশনা থেকে বিভূতি-ভিন্টেজ সংস্করণ হিসেবে প্রকাশ করা হলেও প্রথম সংস্করণের ন্যায় উভয় লেখকের নামেই প্রকাশিত হচ্ছে। এই বই পুনঃমুদ্রণের সময় তাঁদের নাম একত্রে উল্লেখ করা প্রকৃত শ্রদ্ধা ও সাহিত্য চর্চার ন্যায্যতার প্রতিফলন বলে মনে করে সতীর্থ পরিবার।
ভূমিকায় উল্লেখিত অধিকাংশ তথ্য ‘কালি ও কলম’ সাহিত্য পত্রিকার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আহমাদ মাযহার-এর লেখা প্রবন্ধ ‘সুন্দরবনে সাত বৎসর: ভুবনমোহন থেকে বিভূতিভূষণ’ এবং তথ্য ও বিনোদন ওয়েবসাইট ‘অবসর’ (abasar.net) হতে সংগ্রহ করা হয়েছে।
পাঠকের পড়ার সুবিধার্থে এই উপন্যাসটি ১০টি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করা হয়েছে, কিছু শব্দের অবশ্য পরিবর্তনীয় বানান পরিবর্তন এবং চরিত্রের সংলাপ-সমূহ উদ্ধৃতি চিহ্ন বা ইনভার্টেড কমা দ্বারা আবদ্ধ করা হয়েছে। সেই সাথে বইতে বেশ কিছু স্কেচ যুক্ত করা হয়েছে।
বন্ধুত্ব হোক বইয়ের সাথে...
শুভেচ্ছান্তে
মো. তাহমিদুর রহমান
সতীর্থ নিবাস, রাজশাহী।
২৬ অক্টোবর, ২০২৫
বই: সুন্দরবনে সাত বৎসর
লেখক: ভুবনমোহন রায় ও বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রচ্ছদ: আবু আনন্দ নিটু ও তাহমিদ রহমান
জনরা: চিরায়ত উপন্যাস (কিশোর অ্যাডভেঞ্চার)
ISBN: 978-984-95490-2-4
সাইজ: ক্রাউন-হার্ডকাভার
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬
মুদ্রিত মূল্য: ২৬০ টাকা
কাহিনি সংক্ষেপ:
ঠাকুরদাদার সাথে ঘুরতে গিয়ে সুন্দরবনের জলদস্যু দ্বারা অপহৃত হয় কিশোর নিলু। প্রাণনাশের ভাগ্য বরণ না করলেও দস্যু প্রধানের ছেলে মউংনু-র খেলার সাথী হিসেবে নিলুকে বরণ করে নিতে হয় পরাধীন জীবন। আর এভাবেই তার সামনে উন্মোচিত হয় অরণ্যের অজানা অধ্যায়। প্রাণী ও বনানীর পারস্পারিক সহাবস্থান এবং প্রকৃতির অপরূপ বৈচিত্র্য তাকে বিমোহিত করে। কিন্তু এসবে তার মুক্তির তৃষ্ণা মেটে না। তার অনুসন্ধিৎসু মন ছুটে যেতে চায় তেপান্তরে মাঠ পেরিয়ে সপ্তসিন্ধু অবধি। অবশেষে একদিন... খুঁজে নেয় সে অনুসন্ধিৎসু মনের ঘরে ফেরার পথ।
বাংলা শিশুসাহিত্যে অভিযানধর্মী কাহিনির ইতিহাস দীর্ঘ হলেও তার প্রাথমিক উৎসের বহু নাম আজ অনেকটাই বিস্মৃত। এই ধারার সূচনা-পর্বে যে কজন মানুষ নীরবে-নিভৃতে ভূমিকা রেখেছিলেন, তাঁদের মাঝে অন্যতম হচ্ছেন প্রমদাচরণ সেন ও ভুবনমোহন রায়।
স্কুল শিক্ষক প্রমোদাচরণ সেন-এর সম্পাদনায় ১৮৮৩ সালে ছোটদের জন্য সেই সময়ের অন্যতম আধুনিক পত্রিকা ‘সখা’ প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকা প্রকাশের জন্য তিনি ঋণ পর্যন্ত করেছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
এরপরে আরও অনেকে বিভিন্ন সময়ে এই পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব নেন এবং ১৮৯৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ‘সখা’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকার অন্যতম একজন লেখক ছিলেন ভুবনমোহন রায়। ১৮৯৩ সালের মে মাসে তাঁর সম্পাদনায় ‘সাথী’ নামে একটি সচিত্র পত্রিকা প্রকাশিত হয়। সাথী পরের বছর ১৮৯৪ সালের এপ্রিল মাস অবধি প্রকাশিত হয়।
ভুবনমোহন রায় ও প্রমদাচরণ সেন ছিলেন খুব ঘনিষ্ট বন্ধু ও আত্মীয় স্থানীয়। প্রমদাচরণের মৃত্যুর পরে ভুবনমোহন তাকে ভুলতে পারেননি। তাঁরই স্মৃতি রক্ষার্থে ১৮৯৪ সালের এপ্রিল মাসেই ‘সাথী’ পত্রিকার নাম বদলে ভুবন মোহন রায়-এর সম্পাদনায় ‘সখা ও সাথী’ নামে প্রকাশ করা হয়। ১৮৯৫ সালে ‘সখা ও সাথী’ পত্রিকায় তিনি ধারাবাহিক কিশোর-অভিযানমূলক কাহিনি ‘সুন্দরবনে সাত বৎসর’ রচনা শুরু করেন। কিন্তু পত্রিকাটি দীর্ঘজীবী না হওয়ায় কাহিনিটি অসমাপ্ত অবস্থায় থেকে যায়।
দীর্ঘ কয়েক দশক পরে, বিশ শতকের তৃতীয় দশকে যোগীন্দ্রনাথ সরকারের প্রচেষ্টায় বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় অসমাপ্ত এই রচনাটি সম্পূর্ণ করেন। বিভূতিবাবুর মৃত্যুর দুই বছর পরে, ১৯৫২ সালে, গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রথম সংস্করণে লেখক হিসেবে উল্লেখ ছিল–
“সখা ও সাথী সম্পাদক ভুবনমোহন রায় ও ‘পথের পাঁচালী’, ‘আরণ্যক’ প্রভৃতি প্রণেতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-প্রণীত।”
বইটি প্রকাশের পরে পরেই তা রাজশেখর বসুর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি প্রকাশক সুধীন্দ্র সরকারকে চিঠি লিখে লেখেন–
“প্রীতিভাজনেষু,
সুন্দরবনে সাত বৎসর বইখানি খুব ভালো লাগল, লেখা ছবি ছাপা কাগজ সবই উত্তম। ছোটো ছেলে-মেয়েরা অ্যাডভেঞ্চার পড়তে ভালোবাসে। এরকম রচনা রূপকথা বা ডিটেকটিভ গল্পের চাইতে হিতকর মনে করি, কারণ, পড়লে মনে সাহস হয়, কিছু জ্ঞানলাভও হয়। সাহসিক অভিযান বা বিপদসংকুল ঘটনাবলির জন্য আফ্রিকায় বা চন্দ্রলোকে যাবার দরকার দেখি না, ঘরের কাছে যা পাওয়া যায় তার বর্ণনাই বাস্তবের সঙ্গে বেশি খাপ খায় এবং স্বাভাবিক মনে হয়।
সুন্দরবন রহস্যময় স্থান, নিসর্গশোভা নদী সমুদ্র নানারকম গাছপালা বন্যজন্তু আর সংকটের সম্ভাবনা সবই সেখানে আছে। এই সবের বর্ণনা এবং চিত্র থাকায় আপনার বইখানি অতি চিত্তাকর্ষক হয়েছে। যাদের জন্য লিখেছেন তারা পড়লে খুব খুশি হবে সন্দেহ নেই।
ভবদীয়
রাজশেখর বসু”
তবে পরবর্তী সংস্করণগুলোতে এক অনভিপ্রেত পরিবর্তন ঘটে। ১৯৭৩ সালের পর বইটির অধিকাংশ সংস্করণে ভুবনমোহন রায়ের নাম পুরোপুরি বাদ দিয়ে কেবল বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নাম ব্যবহার করা হয়। ফলে কাহিনির প্রকৃত প্রবর্তকের পরিচয় আড়ালে চলে যায়। যা বাংলা প্রকাশনা জগতের এক দুঃখজনক দৃষ্টান্ত। অথচ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই বই সম্পর্কে লিখেছিলেন–
“শেষ দিকের কয়েকটি অধ্যায় লিখিয়া দিয়া এই পুস্তকের সুন্দর গল্পটি সমাপ্ত করিবার ভার আমার উপর ন্যস্ত হইয়াছিল। আমি সেই কার্য্যে কতদূর কৃতকার্য্য হইয়াছি জানি না, তবে অধ্যায় কয়টি লিখিবার সময় একটি রূপময় জগতের ছবি মনের চোখে দেখিয়া আনন্দ পাইয়াছি, শুধু এই কথাটি লিখিবার জন্যই এই ক্ষুদ্র ভূমিকাটুকুর অবতারণা। যাঁহারা এ সুযোগ আমায় দিয়াছেন, তাঁহাদের নিকট আমি কৃতজ্ঞ।”
যদিও বিভূতিবাবু এখানে শেষ দিকে কয়েকটি অধ্যায় লেখার কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ করে ভাষারীতি ও লেখনশৈলী অনুযায়ী এই উপন্যাসের প্রায় তিন চতুর্থাংশ তিনি লিখেছেন।
সুন্দরবনে সাত বৎসর–কিশোর উপন্যাসের তকমা ছাপিয়ে, দুই প্রজন্ম ও যুগের সাহিত্য ধারার অনন্য সেতুবন্ধন হিসেবে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে৷ যার লেখক হিসেবে ভুবনমোহন রায় ও বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এঁর নাম একসঙ্গে উচ্চারণ করা মানে বাংলা কিশোর সাহিত্যের ইতিহাসের দুই প্রান্ত–সূচনা ও পরিণতি–একত্রে ধারণ করা। তাছাড়া এই রচনার ক্ষেত্রে দু’জনের নাম পাশাপাশি থাকা শুধু ন্যায়সংগতই নয়–আবশ্যিকও বটে।
পরিশেষে এই ভেবে পুলকিত হতে হয়, সুন্দরবনে সাত বৎসর উপন্যাসটি সতীর্থ প্রকাশনা থেকে বিভূতি-ভিন্টেজ সংস্করণ হিসেবে প্রকাশ করা হলেও প্রথম সংস্করণের ন্যায় উভয় লেখকের নামেই প্রকাশিত হচ্ছে। এই বই পুনঃমুদ্রণের সময় তাঁদের নাম একত্রে উল্লেখ করা প্রকৃত শ্রদ্ধা ও সাহিত্য চর্চার ন্যায্যতার প্রতিফলন বলে মনে করে সতীর্থ পরিবার।
ভূমিকায় উল্লেখিত অধিকাংশ তথ্য ‘কালি ও কলম’ সাহিত্য পত্রিকার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আহমাদ মাযহার-এর লেখা প্রবন্ধ ‘সুন্দরবনে সাত বৎসর: ভুবনমোহন থেকে বিভূতিভূষণ’ এবং তথ্য ও বিনোদন ওয়েবসাইট ‘অবসর’ (abasar.net) হতে সংগ্রহ করা হয়েছে।
পাঠকের পড়ার সুবিধার্থে এই উপন্যাসটি ১০টি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করা হয়েছে, কিছু শব্দের অবশ্য পরিবর্তনীয় বানান পরিবর্তন এবং চরিত্রের সংলাপ-সমূহ উদ্ধৃতি চিহ্ন বা ইনভার্টেড কমা দ্বারা আবদ্ধ করা হয়েছে। সেই সাথে বইতে বেশ কিছু স্কেচ যুক্ত করা হয়েছে।
বন্ধুত্ব হোক বইয়ের সাথে...
শুভেচ্ছান্তে
মো. তাহমিদুর রহমান
সতীর্থ নিবাস, রাজশাহী।
২৬ অক্টোবর, ২০২৫